Skip to main content

Posts

Showing posts with the label Sunil Gangopadhyay

দেখা

-ভালা আছো? -দেখো মেঘ, বৃষ্টি আসবে? -ভালো আছো? -দেখো ঈশান কোণের কালো, শুনতে পাচ্ছো ঝড়? -ভালো আছো? -এই মাত্র চমকে উঠলো ধবধবে বিদ্যুৎ। -ভালো আছো? -তুমি প্রকৃতিকে দেখো -তুমি প্রকৃতিকে আড়াল করে দাঁড়িয়ে রয়েছো -আমি তো অণুর অণু, সামান্যের চেয়েও সামান্য -তুমিই তো জ্বালো অগ্নি, তোলো ঝড়, রক্তে এত উম্মাদনা -দেখো সত্যিকার বৃষ্টি, দেখো সত্যিকার ঝড় -তোমাকে দেখাই আজও শেষ হয়নি, তুমি ভালো আছো?       - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ছবি কৃতজ্ঞতা  

সত্যবদ্ধ অভিমান

সত্যবদ্ধ অভিমান এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ আমি কি এ হাতে কোনো পাপ করতে পারি ? শেষ বিকেলের সেই ঝুল বারান্দায় তার মুখে পড়েছিল দুর্দান্ত সাহসী এক আলো যেন এক টেলিগ্রাম, মুহূর্তে উন্মুক্ত করে নীরার সুষমা চোখে ও ভুরুতে মেশা হাসি, নাকি অভ্রবিন্দু ? তখন সে যুবতীকে খুকি বলে ডাকতে ইচ্ছে হয়– আমি ডান হাত তুলি, পুরুষ পাঞ্জার দিকে মনে মনে বলি, যোগ্য হও, যোগ্য হয়ে ওঠো– ছুঁয়ে দিই নীরার চিবুক এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ আমি কি এ হাতে আর কোনোদিন পাপ করতে পারি ? এই ওষ্ঠ বলেছে নীরাকে, ভালোবাসি– এই ওষ্ঠে আর কোনো মিথ্যে কি মানায় ? সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে মনে পড়ে ভীষণ জরুরী কথাটাই বলা হয়নি লঘু মরালীর মতো নারীটিকে নিয়ে যাবে বিদেশী বাতাস আকস্মিক ভূমিকম্পে ভেঙ্গে যাবে সবগুলো সিঁড়ি থমকে দাঁড়িয়ে আমি নীরার চোখের দিকে…. ভালোবাসা এক তীব্র অঙ্গীকার, যেন মায়াপাশ সত্যবদ্ধ অভিমান–চোখ জ্বালা করে ওঠে, সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে এই ওষ্ঠ বলেছে নীরাকে, ভালোবাসি– এই ওষ্ঠে আর কোনো মিথ্যে কি মানায় ? - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

প্রিয় কবির দু'টি প্রিয় কবিতা

যা চেয়েছি, যা পাবো না - কী চাও আমার কাছে ? - কিছু তো চাইনি আমি ! - চাওনি তা ঠিক । তবু কেন এমন ঝড়ের মতো ডাক দাও ? - জানি না । ওদিকে দ্যাখো … রোদ্দুরে রুপোর মতো জল তোমার চোখের মতো দূরবর্তী নৌকো চর্তুদিকে তোমাকেই দেখা। - সত্যি করে বলো, কবি, কী চাও আমার কাছে ? - মনে হয় তুমি দেবী - আমি দেবী নই । - তুমি তো জানো না তুমি কে ! - কে আমি ! - তুমি সরস্বতী শব্দটির মূল অর্থে যদিও মানবী তাই কাছাকাছি পাওয়া মাঝে মাঝে নারী নামে ডাকি - হাসি পায় শুনে যখন যা মনে আসে তাই বলো, ঠিক নয় ? - অনেকটা ঠিক । যখন যা মনে আসে… কেন মনে আসে ? - কী চাও, বলো তো সত্যি ? কথা ঘুরিয়ো না - আশীর্বাদ ! - আশীর্বাদ ! আমার, না সত্যি যিনি দেবী - তুমিই তো সেই ! টেবিলের ঐ পাশে ফিকে লাল শাড়ি আঙ্গুলে ছোঁয়ানো থুতনি, উঠে এসো আশীর্বাদ দাও, মাথার ওপরে রাখো হাত আশীর্বাদে আশীর্বাদে আমাকে পাগল করে তোলো খামচে ধরো চুল, আমার কপাল নখ দিয়ে চিরে দাও - যথেষ্ট পাগল আছো ! আরও হতে চাও বুঝি ? - তোমাকে দেখলেই শুধু এরকম, নয়তো কেমন শান্তশিষ্ট - না দেখাই ভালো তবে ! তাই নয় ? - ভালো মন্দ জেনে শুনে যদি এ-জীবন কাটা...

হুমম্‌

প্রথম দিন শেষ না হতেই বুঝতে পারছি, ঝোঁকের বশে ৫ দিনের ছুটিটা নেয়া ঠিক হয়নি। একে হাতের অবস্থা ভাল না, কাজ না করলে তো পয়সা নাই! ছুটিতে করার মত ও কিছু নাই। অবশ্য অফিস থাকলেও যে খুব কিছু করি তা নয়। কদিন ধরে ভীষণ গল্পের বই পড়ছি। একটার পর একটা বই ডাউনলোড করছি, প্রিন্ট করছি এবং পড়ছি। আমার আগের সেই বই পড়ার নেশা ফিরে এসেছে। এটা ভাল না মন্দ সেটা সিদ্ধান্ত নেবার সময় এখনও আসেনি। তবে অতীত অভিজ্ঞতার কারনে কিছুটা আশংকাতে আছি। বইয়ের সাথে আমার সম্পর্ক খুব ছোটবেলার। নানা রঙের ছবির বই গুলো ছিলো অসম্ভব প্রিয়। আরেকটু বড় হয়ে যখন পড়তে শিখলাম, তখন ঠাকুমার ঝুলি আর উপেন্দ্রকিশোরের রুপকথার রাজ্যে নিমিষেই হারিয়ে যেতাম। আমিই কঙ্কাবতী , আমিই সিন্ডারেলা। সেভাবে কমিকসের ভক্ত হয়ে উঠতে পারিনি কখনো, তবে হাতের কাছে পেলে বাদ যেত না চাচা চৌধুরি, নন্টে ফন্টে, টিনটি্ন, ফ্যান্টম। এরপর পরিচয় হল তিনগোয়েন্দা, ফেলুদা, শাহরিয়ার কবীরের বইয়ের সাথে। বাইরে যাওয়ার সুযোগ কম থাকায় বই-ই ছিলো আমার খেলার সাথী। মনে আছে শরত্চন্দ্রের ছোটদের “রামের সুমতি” পড়ে কি ভীষণই না কেঁদেছিলাম। পরে বিটিভিতে “রামের সুমতি” সিনেমাটা দেখে আরেকদফা কান্না। প্রচু...